মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী ঘটেছিল সেদিন?
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গৃহকর্মী আয়েশা ও তাঁর স্বামী জামাল সিকদার রাব্বিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ ও তাঁদের জবানবন্দিতে মূল ঘটনার কারণ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। চুরির সন্দেহ, কথাকাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির জেরেই ঘটে যায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশা ও তাঁর স্বামীকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা পুলিশকে জানান, হত্যার আগের দিন বাসার কিছু টাকা ও মালামাল খোয়া যাওয়া নিয়ে গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজ বিরক্ত ছিলেন। সেই বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরদিন কাজে গেলে আবারও তাঁকে চোর অপবাদ দেওয়া হয়। গৃহকর্ত্রী তাঁকে তল্লাশি ও পুলিশের কাছে সোপর্দ করার কথা বললে আয়েশা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং হাতাহাতির একপর্যায়ে রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করেন।
চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসাকেও ছুরিকাঘাত করেন। পরে বাসা থেকে দুটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালান আয়েশা। এরপর নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বোরকা ছাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান, যাতে শনাক্ত না হতে হয়।
গ্রেপ্তারের পর আয়েশার স্বামী জামাল সিকদার রাব্বি বলেন, ‘ল্যাপটপ–মোবাইল চুরি করতে গিয়ে তার ম্যাডাম ধরে ফেলায় সে ছুরি মারে। যতক্ষণ ধইরা ছিল, ততক্ষণই ছুরি দিয়া মারছে। পরে মেয়ে আইলে তাকেও মারে।’
বাসা থেকে নেওয়া দুটি ল্যাপটপের মধ্যে একটি বিক্রি করেছেন আয়েশা। আরেকটি পুলিশ উদ্ধার করেছে। মোবাইল ফোনটি তিনি পানিতে ফেলে দেন বলে জানিয়েছেন। বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। পুলিশ বলছে, আয়েশা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না—তা তদন্তে পরিষ্কার হবে।
গত সোমবার সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি আবাসিক ভবনের সাততলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তাঁর মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ (১৫) ছুরিকাঘাতে নিহত হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গৃহকর্মী আয়েশা বোরকা পরে ভবনে ঢুকে কিছুক্ষণ পর নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে ভবন ছাড়ছেন।



